মঙ্গলবার, ২৭ Jul ২০২১, ১২:১৭ অপরাহ্ন

দামুড়হুদায় মাথাভাঙ্গা নদীর তীর থেকে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি শনাক্ত করলো পরিবার

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি:

দামুড়হুদা উপজেলার উজিরপুরের কাওমী মাদ্রাসার পিছনে মাথাভাঙ্গা নদীর তীর থেকে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি কুষ্টিয়ার মিরপুর নানার বাড়ী থেকে নিজ বাড়ীতে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হওয়া দৌলতপুর উপজেলার পিপুলবাড়ীয়া গ্রামের মধু খানের মেয়ে ও আমলা সরকারী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী মিম খাতুনের বলে শনাক্ত করেছেন তার পিতা মধু খান।
জানা গেছে,  রোববার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার পিপুলবাড়িয়া গ্রামের মধু খান ও তার স্ত্রীসহ নিকট আত্মীয়রা দামুড়হুদা মডেল থানায় হাজির হয়ে কঙ্কালের সাথে উদ্ধার হওয়া পোশাক, ভ্যানিটি ব্যাগ ও জেএসির সার্টিফিকেট ও পায়ের জুতা দেখে তারা কঙ্কালটি তাদের নিখোঁজ মেয়ে মিমের বলে শনাক্ত করেন।
নিহতের বাবা মধু খান দৈনিক পশ্চিমঞ্চল ও দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশকে জানান, নিখোঁজের ২ দিন আগে মেয়ে পাশ্ববর্তী মিরপুর উপজেলায় নানা বাড়ীতে বেড়াতে যায়। সেখানে একদিন থেকে নিজ বাড়ীতে ফিরছিল মিম। কিন্তু সে আর বাড়ীতে ফিরে না আসায় সম্ভাব্য বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাড়ী খোঁজাখুজি করেও তাকে না পেয়ে স্থানীয় থানায় মেয়ে নিখোঁজের বিষয়টি জানিয়ে জিডি (সাধারণ ডায়রী) করতে গেলে পুলিশ সাধারণ ডায়েরী নেই নি। পুলিশ ও বিভিন্ন মিডিয়ার সংবাদ শুনে দামুড়হুদা থানায় এসে মেয়ের বোরকা, পোশাক ও ভ্যানেটি ব্যাগ, জুতা দেখে শনাক্ত কঙ্কালটি আমার মেয়ের। শেষ পর্যন্ত মেয়ে মারা যাওয়ার বিষয়টি জানতে তো পারলাম।
এ বিষয়ে রবিবার মিমের পিতা মধু খান বাদী হয়ে এক জনের নামসহ অজ্ঞাত ক’একজনকে আসামী করে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নাম্বার ৭, তারিখ ২২/১১/২০২০ ইং।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল খালেক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শনিবার নদীর কিনারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা কঙ্কালের হাড়, মাথার খুলি, ভ্যানেটি ব্যাগ, পায়ের জুতাসহ কাপড় চোপড় উদ্ধার করা হয়। ওই দিন সন্ধায় উদ্ধারকৃত কঙ্কালের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডি.এন.এ টেষ্ট করতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানোর প্রক্রিয়া করা হয়।
এছাড়া কঙ্কালের ভ্যানেটি ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা জেএসসির সার্টিফিকেটের ঠিকানায় পুলিশের মাধ্যমে সংবাদ পৌঁছানোসহ খোঁজখবর
ও তদন্ত শুরু করা হয়। সংবাদ পেয়ে গতকাল রবিবার দুপুরে কুষ্টিয়া দৌলতপুরের পিপুলবাড়িয়া গ্রামের মধু খানসহ তার পরিবারের লোকজন থানায় এসে উদ্ধারকৃত বিভিন্ন আলামত দেখে কঙ্কালটি শনাক্ত করে বলেন এটি তাদের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে মিম খানমের। পরে তারা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মিমের লাশটি নদী দিয়ে ভেসে আসলে ভ্যানেটি ব্যাগ ও পায়ের জুতা কঙ্কালের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়ার কথা না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি খালেক সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ এ বিষয়টা আমলে নিয়ে তদন্তকাজ শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে আমরাও ধারণা করছি লাশটি ভেসে আসে নি। এখানেই কোন এক জায়গায় কলেজ ছাত্রী মিমকে হত্যা করে লাশটি নদীর কিনারে কোথাও পুতে রাখা হয়েছিল। তবে তদন্ত শেষ হলে নিশ্চিত করে বলা যাবে কিভাবে কোথায় হত্যা করা হয়েছিল। আর লাশটির কঙ্কালসহ উদ্ধারকৃত আলামতগুলো কি ভাবে এখানে আসলো।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২১ নভেম্বর) বিকালে দামুড়হুদার উজিরপুর গ্রামের জনৈক ব্যক্তি নদীতে গোসল করতে গিয়ে নদীর তীরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মানুষের হাড় গোড় দেখতে পায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দামুড়হুদা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে মাথার খুঁলি ও হাড় গোড় দেখে থানা পুলিশের খবর দেয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মাথার খুলি ও হাড় গোড় উদ্ধারসহ জব্দ তালিকা করে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT