শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
ঝড়-বৃষ্টিতে ম্লান হতে পারে ঈদ আনন্দ ঈদ উদযাপন যেন সংক্রমণ বাড়ার উপলক্ষ না হয়: প্রধানমন্ত্রী মেহেরপুরের গাংনীতে মাংসের দােকান উচ্ছেদ করলেন মেয়র আহম্মেদ আলী ফিলিস্তিনিদের উপর হামলার প্রতিবাদে ঝিনাইদহে মানববন্ধন গাংনীতে দােকানদারের হামলায় বাবা-মেয়ে আহত ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বজ্রপাতে গৃহবধু শেফালীর মৃত্যু কুষ্টিয়া মিরপুর থানা পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার খাইরুল আলম মুজিবনগরে সিডিপি‘র স্পান্সার শিশুদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী উপহার প্রদান গাংনীতে খাদ্য অনপোযুগী পঁচা চাল নিয়ে চালবাজি, মােটরশ্রমিকদের তােপের মুখে চাল বিতরণ বন্ধ চুয়াডাঙ্গায় ২১ বীর মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী প্রদান

কৃষক দম্পতি স্বামী-স্ত্রীকে জবাই করে নৃশংসভাবে হত্যা

মেয়ে ইতির অভিযোগ বাপের ২য় স্ত্রী ও গ্রামের লোভী মানুষ সম্পত্তির লোভে হত্যা ঘটিয়েছে

ঘটনাস্থল থেকে ফিরে তানজির ফয়সাল:

দামুড়হুদার গোবিন্দপুর মোল্লাপাড়ায় নিজ বসতবাড়ীর শয়নকক্ষের দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দূর্বত্তরা স্বামী-স্ত্রী ইয়ার আলী মোল্লা (৫৫) ও রোজিনা খাতুন (৪৫) উভয়কে জবাই করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত (৩ অক্টোবর) শনিবার দিনগত রাতের কোন এক সময়ে।
জানা যায়, গতকাল রোববার সন্ধার দিকে সন্ধার দিকে নিহতের ছোট মেয়ে ইতি খাতুন বাড়ীতে ঢুকে বাপ-মা’র জবাই করা লাশ দেশে চিৎকার দিলে পাড়া-প্রতিবেশীরা ছুটে আসে।


এদিকে, থানা এলাকার গোবিন্দপুর মোল্লাপাড়া স্বামী-স্ত্রী জবাইয়ে খবরে রাত ৮টার দিকে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সদস্যরা সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত শেষে ময়না তদন্তের জন্যে লাশ ২টি চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়ে দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল ওই বাড়ী থেকে হত্যকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি একটি হাসুয়া উদ্ধার করে জব্দ তালিকাভূক্ত করে।
তবে, কৃষক দম্পতি ইয়ার আলী ও তার স্ত্রী রোজিনা খাতুনকে কেন ও কি কারণে এবং কারা হত্যা করেছে,Ñ তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করে নি পুলিশের কেউই।

খোঁজ-খবরে প্রকাশ, ইয়ার আলী মোট ৪টি বিয়ে করে। প্রথম স্ত্রী ৩টি কন্যা মন্তান রেখে আগেই মারা যায়। পরবর্তীতে, ইয়ার আলী আরো ৩টি বিয়ে করে। দ্বিতীয় বিয়ে করে দর্শনার শ্যামপুর গ্রামের ফেরদৌসী।
গ্রামের মেম্বর শাহাজামাল জানান, দ্বিতীয় স্ত্রী ফেরদৌসী স্বামী ইয়ার আলীর কাছ থেকে নিজের নামে ৩ বিঘা জমি লিখে নিয়ে স্বামীর বিনা অনুমতিতে বাপের বাড়ী চলে যায়। এ জন্য ইয়ার আলি দ্বিতীয় বৌ ফেরদৌসীর নামে মামলা করে। এরপর ইয়ার আলীর তৃতীয় বিয়ে হয় মহেশপুরের রেহেনার সঙ্গে। তৃতীয় বৌ রেহানার সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে মাস আগে।
গ্রামবাসী জানায়, আজ (গতকাল) রোববার ইয়ার আলীর তার তার বিবাহিতা মেয়েকে শ্বশুরবাড়ী থেকে আনতে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ওই মেয়েকে কেউ আর আনতে যায় নি।
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চুয়ডাঙ্গার পুলিশ জাহিদুল ইসলাম ও সহকারী পুলিশ সুপার আবু রাসেল।
এরপর ওই রাতে ঘটনাস্থলে আসেন সি আইডি’র একটি দল। খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ঝিনাইদহ থেকে পিবিআই’র একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকান্ডের ব্যবহারের আলামত সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর ধারণা শনিবার দিনগত রাতের কোন এক সময় অজ্ঞাত দূর্বৃত্তরা কৃষক-দম্পত্তির ঘরে ঢুকে জবাই করে স্বামী-স্ত্রী উভয়কে জবাই করে হত্যা সংঘটিত করে।
নিহতের বড় মেয়ে হীরা খাতুন জানিয়েছেন আমার বাপের ৪০ বিঘা জমি রয়েছে,Ñ যা আমার অন্য চাচাদের নেই। আমার চাচা ও চাচতো ভাইসহ গ্রামের মানুষের হিংসা ছিলো। এছাড়াও, আমার বাপের কাছ থেকে দিত্বীয় স্ত্রীর ফেরদৌসীর ৩ বিঘা জমি লিখে নেন এজন্য আমার বাপ ফেরদৌসীর নামে মামলা করাছিলেন। সেই মামলা এখনো চলছে।
মেয়ে হীরা খাতুন অভিযোগে বলেন, ‘আমার বাপের সম্পত্তির জন্যেই তৃতীয় স্ত্রীসহ তাকে (পিতা ইয়ার আলী) পরিকল্পিত হত্যা করেছে।
নিহতের ছোট মেয়ে ইতি খাতুন জানিয়েছেন ‘আমি আমার মেজ বোনের বাড়ী পারকৃষ্ণপুর বেড়াতে যায়। আমার বাপের সাথে আমার গত শনিবার সাকালে মোবাইল ফোনে কথা হয়। আমার বাপ বললো মা আমি রবিবারে সকালে তোমাকে নিতে যাবো। আমি বললাম আচ্ছা সকাল করে এসো। বাপের সঙ্গে এই ছিল আমার শেষ কথা’। এরপর শনিবার পেরিয়ে পরদিন রবিবার সকালে যখন বাপ আসে না; তখন আমি অনেকবার মোবাইল করি। আমার বাপ ফোন ধরে না। পরে আমি সন্ধার দিকে গোবিন্দপুরে এসে দেখি বাড়ীতে রাতে ঘুমালে তালা দেওয়া থাকে সে ভাবে তালা দেওয়া রয়েছে। আমি বাড়ীর প্রাচীর পার হয়ে বাড়ীর ভিতর ডুকে দেখি বাড়ির দালান ঘরের গ্রীল দেওয়া আর ঘরের কাঠের দরজা ভাঙ্গা। দালানে গিয়ে দেখি আমার বাপ আর মা’র গলাকাটা লাশ পড়ে আছে। আমি ভয়ে চিৎকার করলে গ্রামের লোকজন এসে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ আসে।
মেয়ে ইতি খাতুন অভিযোগে জানায়, ‘আমার বাপের দ্বিতীয় স্ত্রী ফেরদৌসীসহ গ্রমের অনেকেই এই হত্যার সঙ্গে জড়িত আছে। আমার বাপের ছেলে নেই। আমরা ৩ বোন। আমার বাপের জমির উপর অনেকের দীর্ঘদিন দিনের লোভ রয়েছে। পরিকল্পনা করে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) আবু রাসেল জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে, পরিবারের লোকজন বা ছেলে মেয়েরা কোথায় থাকে,Ñ তাও জানার চেষ্টা করছি। কারণ, এতো বড় একটা ঘটনা ঘটলো। রহস্য আছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT