রবিবার, ০৭ মার্চ ২০২১, ০৫:৩০ অপরাহ্ন

শিরোনাম
আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখুন: প্রধানমন্ত্রী যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা চালু হবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে: দীপু মনি ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম সাংবাদিকতার অনুশীলন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে: সম্পাদক পরিষদ চুয়াডাঙ্গার গোরস্থান পাড়ায় স্বামীর নির্যাতনে স্ত্রী বাড়ী ছাড়া: পুলিশের উদ্যোগে সংসারে ফিরলো শান্তি স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকলকে মেলায় আসতে হবে:ডিসি নজরুল ইসলাম সরকার আলমডাঙ্গার আসমানখালীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে নারীসহ একই পরিবারের ৩ জনকে পিটিয়ে জখম দামুড়হুদার জয়রামপুরে  ১০ কাঠা জমির পানের বরজ পুড়ে ছেই : ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ২ লক্ষ টাকার

দ্রুত প্রতিকার না করলে বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষার্থী সংকটের আশংকা

আহসান আলম:
বর্তমান সরকার এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ও ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশ গঠনে অন্যান্য সেক্টরের ন্যায় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সেই লক্ষ্যে এলজিইডি কতৃক বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মিতের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ১২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৬টি বিদ্যালয়ে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকাসহ সদর উপজেলার ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। জ্বরাজীর্ণ, টিনশেড, বাঁশের বেড়া ও আধাপাকা ভবনে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পাঠদান করতে বাধ্য হচ্ছে। শুরু থেকে আজ অবধি ওইসব বিদ্যালয় গুলোতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বলে দিন দিন বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন ও টিনশেড এবং বাঁশের বেড়া গুলো যেন মনে হচ্ছে প্রাচিন কোন নিদর্শন। এখনই টিনশেড সড়িয়ে এবং জরাজীর্ণ ভবন গুলো ভেঙে ওই স্থানে নতুন ভবন নির্মাণ না করলে ভবিষ্যতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এখানে পাঠদান করতে আসতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। বর্তমান উন্নয়নের বাংলাদেশে শিশুদের মানসিকতারও উন্নতি ঘটেছে। সেই কারনে উন্নত পরিবেশে পাঠদান করলে শিক্ষার্থীদের মানসিকরাও বিকাশ ঘটবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারনা। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য যদি সদয় দৃষ্টি দেন তাহলে বিদ্যালয়গুলো প্রাণ ফিরে পাবে এবং সেই সাথে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আগ্রহ বাড়বে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় মোট ১২২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। যার মধ্যে ৬টির অবস্থা একেবারেই নাজুক। বিদ্যালয় গুলো চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার মাষ্টারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেলগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সদর উপজেলার দিননাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভুলটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিরোজখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বেগমপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
বিদ্যালয় গুলোর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার মাষ্টাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একটি পরিত্যক্ত পাকা ভবন ও বাকি গুলো টিনশেড, সদর উপজেলার দিননাথপুর সরাকরি প্রাথমিক বিদ্যালয় একটা পাকা ভবন ও বাকি গুলো জরাজীর্ণ টিনশেড, বেলগাছি সরকারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একটি পাকা ভবন আর একটি টিনশেডের জন্য পাঠদানের স্থান, সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা একেবারেই নাজুক। সেখানে ৩ টা কক্ষ থাকলেও উপরে টিনশেড। পাকা ভবন থাকলেও দেয়ালের প্লাষ্টারগুরো ঝড়ে পড়ার উপক্রম। সর্বপরি বিদ্যালয়টির একেবারেই জরাজীর্ণ অবস্থা। ভুলটিয়া সরাকরি প্রাথমিক বিদ্যালয় একটা বিল্ডিং থাকলেও বাকিগুলো টিনশেড।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বেলগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফি বেগম বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বর্তমানে ২৫৫ জন। দুইটা পাকা শ্রেণিকক্ষ থাকলেও একটা সিড়িঘরের নিচে। শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে যে টিনশেড আছে সেখানে পার্টিশন দিয়ে ৩ টা শ্রেণিকক্ষ বানিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হয়। তিনি আরও বলেন, টিনশেডের নিচে শিক্ষার্থীরা পাঠদান করতে চায়না। কারন জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিটা মামুষই সৌখিন। কেউই চাইনা তাদের ছেলে-মেয়েরা কষ্টের ভিতর লেখাপড়া করুক। টিনশেডে গরমের সময় প্রচন্ড গরম পড়ে। এখানে নতুন ভবন হলে প্রতি বছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে। বিদ্যালয়ের এই অবস্থা দেখে অনেক অবিভাবক তাদের ছেলে মেয়েদের প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দিননাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসিফা আক্তার জানান, তার বিদ্যালয়ে মোট ২শ’ জন শিক্ষার্থী আছে। একটি পাকা ভবন থাকলেও সেখানে আছে অফিসকক্ষ ও একটি শ্রেণিকক্ষ এবং জরাজীর্ণ একটা টিনশেড আছে। সেখানে ৪ টা কক্ষ আছে। কোন রকম শিক্ষার্থীদের নিয়ে কষ্টের মাঝে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের অবস্থা জনাজীর্ণ হওয়ার কারনে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে চাই না। বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ টিনশেডেটির দেয়ালে কোনরকম রঙ করে চালানো হচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলে ভিতরে পানি পড়ার কারনে শিক্ষার্থীরা সেখানে বসতে পারনা। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় আমাদের বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমতে থাকবে। লেখাপড়ার মান বাড়াতে এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার আগ্রহ বাড়াতে অচিরেই এর প্রতিকার করা প্রয়োজন।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয় সাধারণ মানুষের দাবি অচিরেই এই বিদ্যালয়গুলো ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করা জরুরি। তা না হলে শিক্ষার্থীরা সরকারি বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। তারা আরও বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি চুয়াডাঙ্গা জেলার অনেক উন্নয়নমুলক কাজ করেছেন। তাদের দাবি যদি আমাদের সংসদ সদস্য একটু পদক্ষেপ গ্রহন করেন তাহলে আমাদের এলাকার জরাজীর্ণ বিদ্যালয়গুলো নতুন রুপে পরিনত হবে। আর সেই সাথে এলাকার শিক্ষার্থীরা পাঠদানে আগ্রহ প্রকাশ করবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রকৌশলী আরিফউদ্দৌলা বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ১৭ টা প্রকল্প ইতোমধ্যে তাদের কাজ শেষ করেছে। ওই প্রকল্পের ৩ টা কাজ চলমান আছে। আশাকরি আগামি ১৫ দিনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তিনি আরও বলেন, পিইডিপি-৪ এর আওতায় ২টি কাজ চলমান এবং বাকি ৮টির কাজ দ্রুত শুরু হবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার উত্তম কুমার কুন্ডু বলেন, যেসব বিদ্যালয়গুরোর অবস্থা জরাজীর্ণ সেগুলোর রিপিয়ারিং করার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি মহদয় যদি একটু সদয় হন তাহলে জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ের ভবনগুলো নতুন রুপে পরিনত করা সম্ভব।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT