শুক্রবার, ৩০ Jul ২০২১, ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন

কোপাকুপির ঘৃণ্য রাজনীতি পরিহার করুন : অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ

আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান ( অফিসার ইনচার্জ) চুয়াডাঙ্গা সদর থানা:

একজন মানুষ যখন অপর একজন মানুষকে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় সুপরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে বিভৎসভাবে যখম করে এবং জখমী ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে কোন মানুষ যখন দেখে তখন মনের অজান্তেই মানুষগুলো বলতে থাকে এটা কোন মানুষের কাজ নয়। আমি অন্ততঃ কয়েকটি ঘটনার সাক্ষ্য বহন করছি। সাধারণ মানুষ যখন ঘটনা ঘটার পর পর যখমী গুলো দেখেছে, তখনই মানুষ কে বলতে শুনেছি এটা কোন মানুষের কাজ হতে পারে না।
হ্যাঁ। আমি চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা সহ বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি ও অতীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন কুপাকুপির ঘটনার কথা বলছি। কয়েকটি ঘটনা আমি প্রত্যক্ষ করেছি। জখমী গুলো যখন দেখেছি, নির্বাক হয়েছি। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য হিসাবে ঐ সময় যা বলতে চেয়েছি, অনেক সময়ই সে ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। মাঝে মাঝে নিজেকে বড্ড অসহায় মনে হয়। অপরাধ তত্ত্ব পড়াশোনা করেছি। অপরাধ নিয়ে কাজ করেছি দীর্ঘ ২১ বছর।
আমার কাছে মনে হয়েছে যারা খুব ঠাণ্ডা মাথায় মানুষকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে, তাদের ভেতর আর যাই হোক মনুষত্ব থাকতে পারেনা। মানুষে মানুষে বিভেদ, দ্বন্দ্ব, মনোমালিন্য মতাদর্শগত পার্থক্য থাকতেই পারে এবং এটি মানুষের একটি সংস্কৃতিগত অনুষঙ্গ। পাশাপাশি সহজাত প্রবৃত্তিও বটে। আমরা মনে করি এগুলোকে বাদ দিয়ে তো মানুষ নয়। তাই এগুলো কে নিয়েই সভ্যতা এগিয়ে চলে। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমরা দাবি করি, আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে সভ্য মানুষ। কিন্তু যখন আমরা এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করি ।সে ভুল ভেঙে যায়।
আমি বলতে চাই রাজনীতিতে মতাদর্শগত পার্থক্য, দ্বন্দ্ব, বিভেদ, মনোমালিন্য ইত্যাদি রাজনীতির অনুষঙ্গ হিসেবে থাকবে। কিন্তু এটিকে যে প্রক্রিয়ায়, যেভাবে চুয়াডাঙ্গা শহরে ব্যবহার হচ্ছে সেটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আশঙ্কার। যে-যুবক গুলো এসব ঘটনা গুলো ঘটাচ্ছে তাদের দিকে একটু তাকিয়ে দেখুন। দেখুন তো চিনতে পারেন কিনা? তাদের শিক্ষাদিক্ষা, তাদের বেড়ে ওঠা, তাদের আড্ডাস্থল, তাদের চলন-বলন, তাদের শরীরের অবয়ব দেখুন। মনে হয়? এরা মানুষ হয়ে উঠেছে? আমি যতগুলো অভিযুক্ত কে দেখেছি- এদেরকে মূলতঃ বাহ্যিকভাবে মানুষ মনে হলেও এরা আসলে মানুষ নয়। মানুষ নামের পশু। অনেকে বলে থাকেন, যাকে মারা হয়েছে সে খুব খারাপ। সে অনেক মানুষকে মেরেছে, কষ্ট দিয়েছে। তাই তাকেও মারা হলো। সভ্য মানুষ হিসেবে আমরা কি এ কথা বলতে পারি। যেখানে একটি রাষ্ট্র আছে, যেখানে একটি পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান আছে, যেখানে দেশে একটি প্রচলিত আইন আছে, যেখানে একটি বিচার ব্যবস্থা আছে সেখানে ক্ষুব্দ কিংবা সংক্ষুব্ধ হয়ে এ কথা বলা অন্যায়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া একটি ফৌজদারি অপরাধ যেটা আমরা জেনে বুঝে করছি। সব ধরনের অন্যায় থেকে তথা সংবিধান পরিপন্থী সকল কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকাই হচ্ছে সভ্য মানুষের একটি গুণগত সভ্যতার লক্ষণ।আমরা যারা সভ্য মানুষ হিসেবে নিজেদেরকে দাবি করি। এগুলোকে লালন পালন করাও আরো বড় ধরনের অন্যায়। আমরা যারা পরিবারের, সমাজের, গোষ্ঠীর তথা রাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিত্ব করি, তাদের সকলকে অনুরোধ করব ।এখন সময় এসেছে ঘুরে দাঁড়াবার। পরবর্তী প্রজন্মকে একটি আদর্শ সমাজ ব্যবস্থা উপহার দেওয়া এই শ্রেনীর পবিত্র দায়িত্ব।
আসুন। আর হানাহানি, মারামারি, কাটাকাটি নয়। আমরা সকলে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অবয়বে মানুষ হয়ে উঠি। শুধু বাহ্যিক অবয়বে মানুষ হতে চায় না। আমরা যারা সমাজের দায়িত্বশীল মানুষ আছি, তারা সকলে মিলে এ ধরনের অন্যায় কে প্রশ্রয় না দিয়ে তাদের অন্যায় কে অন্যায় বলেই চিহ্নিত করে অন্যায়কারীদের আইনের হাতে সোপর্দ করি। এ ধরনের অপরাধীদের তথা আইন লঙ্ঘনকারীদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাবার প্রত্যয়দীপ্ত অঙ্গীকার করি এবং এভাবেই আমরা সকলে মিলে মিশে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলবার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব, ইনশাল্লাহ।
তথ্য সূত্র: ফেসবুক; Chuadanga Thana

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT