শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
দর্শনায় শিক্ষার্থীদের মাঝে শীতবস্ত্র প্রদান “ভালোবাসার বন্ধন দর্শনার করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের রোগ মুক্তি কামনায় চুয়াডাঙ্গায় সুবিধা বঞ্চিতদের মাঝে খাবার বিতরণ দর্শনা থানা সেচ্ছাসেবক দলে আয়োজনে দোয়া ও মিলাদ রাতের আধারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৩ টি পরিবারের ৫০ ঘর পুরে ছাই চুয়াডাঙ্গার দর্শনা রেল বন্দরে গুলিবর্ষণ গাংনীর গাঁড়াডোব ভাগিনার হাঁসুয়ার আঘাতে মামা আহত গাংনীতে ভ্রাম্যমান আদালতে তিন মাদক ব্যবসায়ীর কারাদন্ড রাজশাহীর মোহনপুরে ১৮শ’ত স্কুল শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ টিকা প্রদান দর্শনা থানা সেচ্ছাসেবক দলে আয়োজনে দোয়া ও মিলাদ

রক্তভেজা ১৫ আগষ্ট আজ

দৈনিক আমাদের চুয়াডাঙ্গা ডটকম ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট: আজ রক্তেভেজা আর অশ্রুঝরা ১৫ আগষ্ট। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ইতিহাস ও ইতিহাসের মহানায়ককে ঘৃণ্যতম হত্যা করা হয়। সে’দিন বাঙালি জাতি হারিয়েছিল তাদের চিরকালীন ছায়াদাতা মহামানব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বাঙালির জন্য জীবন উৎসর্গ করা চিরসংগ্রামী মানবতাবাদী বঙ্গবন্ধু যখন দেশকে নতুন উদ্যমে এগিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত সংগ্রাম শুরু করেছিলেন, তখনই তাকে হত্যা করা হয়।
‘৭৫-এর ১৫ আগষ্ট। ভোরের আলো ফোটার অপেক্ষা। পাখির কূজন চারিদিকে। বৃক্ষগুলো ঝিরিঝিরি বাতাসে প্রকৃতিকে স্নিগ্ধ করছে। নাগরিকরা ঘুমে। কিন্তু ধানমন্ডীর ৩২ নম্বর বাড়ীটিকে ঘিরে চলছে নরপশুদের হিংস্রতার চূড়ান্ত উৎসব। সেদিনের ওই সময়ে বাংলাদেশের বাতিঘরের পবিত্র আলো নিভিয়ে দেশকে অন্ধকারের পথে ঠেলে দেয় একদল কুলাঙ্গার। যে মানুষটি পরম মমতায় বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জন্য অবিরাম লড়াই করে গেছেন সেই মানুষটিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ক্ষতবিক্ষত করা হয় পুরো বাংলাদেশকে। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাই শুধু নয়, এরপর নরপশুরা উৎসব করে।
১৫ আগষ্ট, ১৯৭৫। সুবহে সাদেকের সময় পবিত্র আজানের ধ্বনিকে বিদীর্ণ করে ঘাতকের মেশিনগানের ঝাঁক ঝাঁক গুলি ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বাড়ীটিকে ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। ঝাঁঝরা হয়ে ওঠে স্বাধীন বাংলার বুক। কিছু বিপথগামী সেনা সদস্য ইতিহাস সষ্ট্রার বুকেই শুধু গুলি চালায় নি, একইসঙ্গে তার ছায়াসঙ্গী ও স্বজন নিরীহ-নিরপরাধ প্রতিটি নারী, শিশু ও অন্তঃসত্ত্বাকেও হত্যা করে। বাংলার রাজনীতির চিরকালীন জ্যোতিষ্ক, বাঙালির বটবৃক্ষ বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের বক্ষ বিদীর্ণ করে উল্লাস করে হায়েনার দল। বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে সেদিন ছিল একটি কালো দিন। দেশের মানচিত্রসম মানুষটির রক্তে সেদিন ভিজে গিয়েছিল পুরো বাংলাদেশ।
১৫ আগষ্টের এই নারকীয় হত্যাকান্ডে প্রকাশ্যে বিপথগামী কিছু সেনাসদস্য সক্রিয় থাকলেও নেপথ্যে দেশী-বিদেশী রাজনৈতিক চক্র, সামরিক-বেসামরিক আমলাচক্র ও স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত শক্তির ইন্ধন, পরিকল্পনা ও নির্দেশনার বিষয়টি ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, বাংলার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পাশাপাশি হায়েনার দল সেদিন নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল তার সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ৩ ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেল, বঙ্গবন্ধুর দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, ছোট ভাই শেখ আবু নাসের ও ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাতসহ বেড়াতে আসা আরও ক’একজন নিকট আত্মীয়কে। বঙ্গবন্ধুর জীবন বাঁচাতে ছুটে গিয়ে ঘাতকদের হাতে প্রাণ হারান তার সামরিক সচিব জামিলউদ্দিন আহমেদসহ ক’একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও কর্মচারী। দেশের বাইরে থাকায় সেদিন প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর ২ মেয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা।
জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর একাত্তরের পরাজিত শক্তি স্বাধীনতা বিরোধী চক্র রাষ্ট্র ক্ষমতায় পুনর্বাসিত হতে থাকে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সংগ্রামী বীর বাঙালিকে হায়েনার দল অস্ত্রের মুখে দমিয়ে রাখতে চায় পাকিস্তানী হানাদারদের মতোই। ঘাতকচক্র ও তাদের দোসররা বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে দিয়ে দেশকে আবারও পাকিস্তানী ভাবধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। খুনী চক্রের প্রধান দোসর জাতীয় বেঈমান ‘বাংলার মীরজাফর’ খন্দকার মোশতাক ও তার সরকারে থাকা সঙ্গীরা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ঠেকাতে ও খুনীদের রক্ষা করতে ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ জারী করে। পরে অনৈতিক পন্থায় ক্ষমতায় আসা জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ইনডেমনিটিকে আইন হিসেবে অনুমোদন দেন।
এতেই শেষ নয়, জিয়া সরকার খুনীদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরী দেয়। পরে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনের মাধ্যমে খালেদা জিয়া সরকার খুনী কর্নেল রশীদকে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতার স্বীকৃতি দেয়।
হত্যাকান্ডের ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ বাতিল করলে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ উন্মুক্ত হয়। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর শুরু হয় এই জঘন্য হত্যাকান্ডের বিচার কাজ। প্রায় ৩৫ বছর পর ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারী রাষ্ট্রপিতা হত্যার কলঙ্ক থেকে মুক্তি পায় জাতি। বঙ্গবন্ধু হত্যার চূড়ান্ত বিচারের রায় অনুযায়ী ওই দিন মধ্যরাতের পর বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী বরখাস্তকৃত লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মেজর (অব.) বজলুল হুদা, লে. কর্নেল (অব.) এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার) এবং লে. কর্নেল (অব.) মুহিউদ্দিন আহমেদকে (আর্টিলারী) ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারী ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদন্ডের রায় কার্যকর করা হয়। সম্প্রতি খুনী মাজেদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়।
তবে, বঙ্গবন্ধুর আরও ৫ খুনী এখনো রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থান এখনো শনাক্তই করা যায় নি। দু’জনের অবস্থান বিদেশে শনাক্ত হলেও তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে দন্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে চলমান আলোচনায় এখনো কোনো সুফল আসে নি। পলাতক আসামীরা হলেন-আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এম রাশেদ চৌধুরী, এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী ও রিসালদার মোসলেমউদ্দিন। তাদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারী করা আছে। এদের মধ্যে নূর চৌধুরী কানাডায় এবং রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইন্টারপোলসহ বিভিন্ন সংস্থা। বাকীরা কোথায় আছে সেটা নিশ্চিতভাবে কারো জানা নেই। এদের কারও বর্তমান মুখাবয়ব নিশ্চিত নয় কেউই।

আজ জাতীয় শোক দিবস। সরকারি ছুটির দিন। দিবসটিকে ঘিরে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দিবসটি স্মরণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডসহ সব শাখার নেতাকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচীর মাধ্যমে দিবসটি পালন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি