বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২, ১০:৫৫ অপরাহ্ন

আলমডাঙ্গায় এক যুবকের বিরুদ্ধে ৩ চিকিৎসককে লাঞ্চিতের অভিযোগ : থানায় মামলা

আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি : দৈনিক আমাদের চুয়াডাঙ্গা ডটকম

আলমডাঙ্গার যাদবপুর গ্রামের এক যুবকের বিরুদ্ধে হারদী হাসপাতালের চিকিৎসককে লাঞ্চিতের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় আরও এক মহিলা চিকিৎসকসহ আবাসিক মেডিকেল অফিসারের সাথে হাতিহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ওই যুবকের বিরদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গার যাদবপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে আব্দুর রহিম (১৬ জুলাই) বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে হারদী হাসপাতালে যান। তিনি তার পিতার পায়ে কাঁটা বিঁধেছে জানিয়ে হাসপাতালে দ্বায়িত্বরত ডাক্তার আশরাফুন নাহার লীনাকে তার পিতার জন্য প্রেসকিপশন লিখে দিতে বলেন। ডাক্তার আশরাফুন নাহার লীনা রোগী ছাড়া তিনি প্রেসকিপশন লিখতে পারবেন না বলে জানান।
এ সময় তাদের মধ্যে বাক-বিতন্ডা শুরু হয়। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়কালে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার মোর্তজা আরেফিন ছুটে গেলে তার সাথেও আব্দুর রহিমের তর্কবিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে আব্দুর রহিম আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারকে লাঞ্চিত করেন। ডিউটি অফিসারসহ দু’জন মহিলা চিকিৎসকের সাথেও হাতাহাতির ঘটনাঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শিরা আরও জানান, এক পর্যায়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর ষ্টাফদের সহযোগিতায় আব্দুর রহমানকে আটকে রাখা হয়। তবে সুযোগ বুঝে সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এদিকে, এ ঘটনা জানতে পেরে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন আলী ও সঙ্গীয় ফোর্সসহ আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ আলমগীর কবীর ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার মোর্তজা আরেফিন জানান, তিনি সে সময় ইমাজেন্সী ওয়ার্ডে ডিউটি করছিলেন। গালিগালাজ শুন ছুটে গিয়ে দেখেন, আব্দুর রহিম নামের এক যুবক ডাক্তার আশরাফুন নাহার লীনাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করছেন আর চিৎকার করে বিশ্রি ভাষায় গালিগালাজ করছেন। তিনি ছুটে গিয়ে বাঁধা দিতে গেলে তাকেও লাঞ্চিত করে। এক পর্যায়ে যুবকটিকে আটকে রাখলেও সে পালিয়ের যেতে সক্ষম হয়। তিনি বলেন, শুধুমাত্র রোগী না দেখে ব্যবস্থাপত্র দিতে অস্বীকার করাতে একজন মানুষ কতটা বিশ্রি আচরণ করতে পারে তা না দেখলে বোঝা দুস্কর।
আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ আলমগীর কবীর জানান, আভিযুক্তক গ্রেফতার করতে পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযান শুর করেছে। খুব শীঘ্রই তাকে গ্রেফতার করা যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আব্দুর রহিমের মা জানান, আব্দুর রহিম শিক্ষিত ছেলে। বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার। তার ছেলে প্রথমেই কোন মহিলার উপর হাত তুলতে পারে তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। মহিলা চিকিৎসকই আগে আব্দুর রহমানের উপর হাত তুলেছেন বলে তিনি দাবী করেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও চেক করলেই তার কথার সত্যতা মিলবে বলেও দাবী করেন।
এ ঘটনায় ডাক্তার আশরাফুন নাহার লীনা বাদী হয়ে রাতে আলমডাঙ্গা থানায় লিকিত এজাহার দায়ের করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি