শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ০৬:০২ পূর্বাহ্ন

দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় অপরাধীদের ক্ষমা নয়,-

‘করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে বিদেশে গিয়ে পজিটিভ হচ্ছে’। মূলত, এই কারণেই বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। এতে করে দেশের ভাবমূর্তি আজ মারাত্মক সংকটে নিপোতিত। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণেই দেশের আজ এ-হেন দুর্দশা । এ রকম মিথ্যা তথ্যের কারণে বাংলাদেশের জন্য বিদেশ গমনে বন্ধ হয়ে যেতে পারে অন্যান্য আকাশ পথগুলিও। ভুয়া সাটিফিকের্টের কারণে প্রাবাসীদের জীবনে রীতিমত অনিশ্চয়তা নেমে এসেছে। করোনার মোকাবিলায় পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার যে শৈথিল্যতা,Ñ তার প্রমাণ হচ্ছে এইটি। এমন ঘটনা দেশের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করছে। এটির সুদূরপ্রসারী বিরূপ প্রভাব আমাদের দেশ ও জাতিকে বহন করতে হবে।
ইতালীর সঙ্গে বিমান চলাচল শুরু হওয়ার পর গত দু’সপ্তাহে হাজারখানেক বাংলাদেশী বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে ইতালী ফিরে গেছে। গত বুধবার কাতার এয়ারওয়েজে ইতালীগামী ১৬৮ বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীকে দেশটিতে ঢুকতে দেয়া হয় নি। গত ৬ জুন থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও আবুধাবী এই দু’টি রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু হওয়ার কথা ছিল। এজন্যে টিকেট বিক্রির কার্যক্রমও শুরু করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। কিন্তু আরব আমিরাত সিভিল অ্যাভিয়েশনের সিদ্ধান্তের কারণে এই দু’টি রুটে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ। নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়েও ৪ বাংলাদেশীর শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চার্টার্ড ফ্লাইটে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জাপান। অন্যদিকে, করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে সব দেশের সঙ্গে বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট বন্ধ থাকলেও তা চালু ছিল চীনের সঙ্গে। কিন্তু ঢাকা থেকে চীনের গুয়াংজু শহরগামী একটি ফ্লাইটে ১৭ জন করোনা রোগী পাওয়ার পর চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনসের বাংলাদেশ-গুয়াংজু রুটে বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বেইজিং। এই যদি অবস্থা হয়,Ñ তা¬Ñহলে এটা আমাদের অর্থনীতি খাত নিমজ্জিত হবে চরম দুর্দশায়।
বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দেশের নাজুক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চিত্র বেরিয়ে এসেছে। একদিকে, যেমন মহামারী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির স্বাস্থ্য খাত। একই সঙ্গে এর নানা দুর্বলতার বিষয়টিও উন্মোচিত হচেছ খোলামেলা ভাবে। সরকারী স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশার কারণে দেশে গড়ে উঠেছে বেসরকারী বিশাল একটি চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা। যেখানে চিকিৎসাসেবা নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বিস্তার লাভের পর থেকেই অনিয়মগুলো সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেছে মাস্ককাণ্ড। এন-৯৫ মাস্কের কথা বলে কেনা হয়েছে নিম্নমানের মাস্ক। সেগুলো সরবরাহের পর প্রশ্ন উঠলে কিছু হাসপাতাল থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে দুর্নীতির একটি শক্তিশালী দুষ্ট বলয় গড়ে উঠেছে। সিন্ডিকেটটি এতই শক্তিশালী যে, ভুয়া সাটিফিকের্ট দিয়ে প্রবাসীদের হয়রানীতে নিপোতিত করেছে। বিশেষ করে রিজেন্ট হাসপাতালের সাহেদ কর্মকাণ্ডে বেকায়দায় পড়ছে সরকারও। এছাড়া, জেকেএস কোনো নমুনা পরীক্ষা না করেই নেগেটিভ/পজিটিভ রেজাল্ট দিয়েছে। এমন অব্যবস্থাপনার জন্য প্রবাসীদেরকে আজ দুরাবস্থা-সংকটে নিপোতিত করেছে।
নানান সূচকে দেশের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক হলেও এই অগ্রযাত্রার পথে এখনো বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে অনিয়ম-দুর্নীতি। জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সরকারের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে,Ñ যদি দুর্নীতির এই মচ্ছব বন্ধ করা না যায়। ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ করোনা কীভাবে সামাল দেয়া যায়,Ñ এটা নিয়ে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব ভীষণভাবে চিন্তিত। এ অবস্থায়, কিছু দুর্নীতিবাজ মানুষের জন্যে দেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক ভাবে বিনষ্ট হোক,Ñ কোনোভাবেই তা, মেনে নেওয়া যায় না।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT