মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৬:৫৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম
চুয়াডাঙ্গায় ২১ বীর মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী প্রদান ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে অবৈধভাবে প্রবেশের দায়ে দালালসহ আটক-২৮ ঝিনাইদহের মহেশপুরে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন এমপি চঞ্চল কালীগঞ্জে মসজিদের ইমামদের আর্থিক অনুদান প্রদান ডিজিটাল বাংলাদেশের নাগরিক সেবায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি চুয়াডাঙ্গায় আলমসাধুর ধাক্কায় ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু লক্ষ্যকোটি মানুষের ভালোবাসার মাঝে, সর্বোচ্চ মা’য়ের ভালোবাসা- আলী মুনছুর বাবু চুয়াডাঙ্গায় মুড়ি প্রস্ততকারী মেসার্স ইনসাফ ট্রেডার্সকে জরিমানা চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বোরো ধান চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন  শেখ নজরুল ইসলাম

কোরবাণীর ঈদ অত্যাসন্ন : পশুর দর পতনের আশঙ্কায় খামারীরা

dailyamaderchuadanga.com dailyamaderchuadanga.com

আমাদের চুয়াডাঙ্গা ডেস্ক: একদিকে করোনা মহামারী অন্যদিকে কড়া নাড়ছে মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব কোরবাণীর ঈদ। ঘরবন্দী রোজার ঈদের পর কোরবানীর ঈদ নিয়েও শঙ্কা কাটছে না। তবে, ত্যাগের এই ঈদে কোরবানীর জন্য পর্যাপ্ত দেশী পশু প্রস্তুত থাকলেও বিক্রি নিয়ে শঙ্কা আর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারীরা। ঈদের জন্য ১ কোটি ১৯ লাখ গবাদি পশু প্রস্তুত রয়েছে। তবে, করোনায় পশু পরিবহন, ক্রেতা সমাগম ও দাম ঠিকমতো পাবেন কিÑনা,Ñ তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন খামারী ও বিক্রেতারা। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ ও সব ধরনের সহায়তার কথাও বলা হচ্ছে। তবুও কাটছে না যেন খামারীদের শঙ্কা
বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবারও কোরবাণীর ঈদে পশু নিয়ে কোন শঙ্কা নেই। দেশের খামারীদের প্রস্তুত করা চাহিদার চেয়ে ১০ লাখেরও বেশী পশু আছে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের হিসাবে দেশে ১ কোটি ১৯ লাখ পশু রয়েছে আর কোরবানী হতে পারে ১ কোটি ১০ লাখের মতো। গতবার ১ কোটি ৬ লাখ কোরবানী হয়েছিল। ফলে, দেশের পশুই মেটাবে কোরবানীর চাহিদা। তবে, এবার বিক্রি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে খামারীদের। করোনার থাবায় খামারী থেকে পশু ব্যবসায় যারা জড়িত সবার হিসেবই যেন পাল্টে গেছে। গত প্রায় ছয় মাসের বেশী সময় ধরে কোরবানীর জন্য পশু হৃষ্টপুষ্টকরণ শুরু করেন দেশের খামারীরা। অনেকে কোরবানীতে পশু বিক্রি করে আবার পরের বছরের জন্য প্রস্তুতি নেন। এবার দেশে ৪ মাসের বেশী সময় ধরে করোনাভাইরাসের বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এতে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কপালে। অনেকের আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি মধ্যবিত্ত অনেকেই যারা বরাবর পশু কোরবাণী দেন এবার নাও দিতে পারেন। এতে পশু বিক্রি কম হলে পশুর দামও কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে খামারীদের মধ্যে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খামারীদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন উদ্বেগ ও পশু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানা গেছে। সাধারণত ঈদের প্রায় এক মাস আগে থেকেই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাটগুলোতে বেপারী-ফড়িয়াদের আনাগোনা থাকলেও এবার এখনও সেরকমভাবে শুরু হয় নি। এতে আরও দুশ্চিন্তা বেড়েছে খামারীদের।
এদিকে, শিক্ষিত তরুণরা এই সেক্টরে যুক্ত হওয়ায় দ্রুতই পাল্টে যাচ্ছে দৃশ্যপট, উন্নতিও হচ্ছে প্রাণিজ সেক্টরে। গত ক’এক বছরে দেশীয় পশু লালন-পালন করে অনেক বেকার তরুণদের জীবনের গল্প পাল্টে গেছে। ছোট খামার থেকে কেউ গড়েছে বড় খামারও। যেই তরুণরা শিক্ষা জীবন শেষে চাকরীর পেছনে ছুটতে তারাই কেউ কেউ এখন চাকরী দিচ্ছে নিজের গড়া ফার্মে। আর সেইসঙ্গে পশু সম্পদে সমৃদ্ধ হয়েছে দেশ।
জানা গেছে, দেশের নানাপ্রান্তে গড়ে উঠেছে গরু ছাগলের খামার। গত ক’এক বছর ধরে এই খামার গড়ে ওঠার প্রবণতা আরও বেড়েছে। এত খামার গড়ে ওঠার কারণ হিসেবে সচ্ছলতা এবং সাবলম্বী হচ্ছেন অনেক বেকার যুবক। বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে মোটাদাগে টাকা হাতে আসাও একটি কারণ। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের খামার শাখার কর্মকর্তা ড. এবিএম খালেদুজ্জামান বলেন, দেশের খামারীরাই ক’এক বছর ধরে কোরবানীর চাহিদা মেটাচ্ছে। এবারও ব্যতিক্রম নয়। খামারী বাড়ছে, পশু উৎপাদন বাড়ছে, আমাদের প্রাণিজ সম্পদে সমৃদ্ধিও হচ্ছে। এ বছর সব মিলিয়ে খামারীর সংখ্যা ৬ লাখের ওপরে। গত এক বছরে প্রায় ত্রিশ হাজার খামারী বেড়েছে। গতবার ছিল ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৪১৬ জন। ২০১৮ সালে খামার ছিল ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯৯১টি। বছর বছর খামারির সংখ্যা যে বাড়ছে তার বড় একটা অংশ তরুণ।
দেশে পবিত্র ঈদ-উল-আজহার আগে এ বছর ভারত থেকে গরু আনা ঠেকাবে সরকার। সীমান্তে ‘বিট খাটালের’ মাধ্যমে গরু আনার অনুমতি এ বছর দেয়া হয় নি। গত মাসের শেষে চামড়াশিল্প নিয়ে সরকারের এক টাস্কফোর্সের সভায় এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাহেদ আলী। তিনি বলেন, এবার দেশীয় খামারীরা যাতে গবাদিপশুর ভাল দাম পান,Ñ তা নিশ্চিত করতে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
পশুর হাট ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে কোরবাণীর পশুর হাট বসবে। একাধিক বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাংলাদেশে কোরবাণীর পশুর হাট বসানো সম্ভব না।
বিক্রেতাদের কাছ থেকে ক্রেতা বা ক্রেতার থেকে বিক্রেতার মধ্যে ছড়াতে পারে। আসলে পুরো বিষয়টিই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আসলে এখানে স্বাস্থ্যবিধি মানা কতটুকু সম্ভব, সেটা ভাববার বিষয় বলেন তিনি।

dailyamaderchuadanga.com

dailyamaderchuadanga.com

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্র বলছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো নির্দেশনাগুলো ক’এক ধাপে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে কোরবাণীর হাট কমিটির জন্য আলাদা নির্দেশনা দেয়া হতে পারে এবং কেনাবেচার জন্য আলাদা নির্দেশনা থাকতে পারে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক আব্দুল জব্বার বলেছেন, কোরবাণীর ঈদের পশু ব্যবস্থাপনার জন্য আমরা পুরোপুরী প্রস্তুত। কোরবাণীর হাট ব্যবস্থাপনা, মেডিক্যাল টিম, এসব বিষয়ে আমরা মতবিনিময় করেছি। আমাদের সবই প্রস্তুতি আছে। আমাদের দেশীয় গরুও চাহিদার বেশী আছে।
পশুর হাটগুলোতে থাকবে কড়া নিরাপত্তা। নিরাপদে কেনাকাটা ও লেনদেনের স্বার্থে নিরাপত্তাবাহিনীর পাশাপাশি জালটাকা শনাক্তের বুথও থাকবে। পুলিশ র‌্যাবের সঙ্গে সমন্বয় করে মোবাইল কোর্ট থাকবে হাটে। এদিকে, এ বছরও কোরবাণীর পশু কেনাবেচায় ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষায় পশুর হাটের তদারকীতে থাকবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। অধিদফতরটির ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার নিশ্চিত করে জানান, অধিদফতরের মহাপরিচালকের নির্দেশে সারাদেশের পশুর হাটে এ বছরও তদারকী চলবে।
উন্নয়নের গতিতে দেশের প্রাণিজ সেক্টর পাল্টে যাচ্ছে। সেইসঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে মানুষের ভাগ্যও। ছোট বড় খামার গড়ে নিজেদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন করছেন এগিয়ে নিচ্ছেন দেশকেও।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT