শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৮:১৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় কৃষকের লাশ উদ্ধার গাংনীতে এক কৃষককে ফাঁসানোর অভিযোগ আজ ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস ॥ সীমিত পরিসরে পালনের প্রস্তুতি উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান টুপি সহিদুলের কিল-ঘুষিতে বৃদ্ধ ইস্রাফিল নিহত জুয়ার আসর থেকে নগদ টাকা-জুয়াখেলার সরঞ্জামসহ গ্রেফতার-২ বেগমপুরের হরিশপুর সড়কের গাছ চুরিকালে চোর পাকড়াও দামুড়হুদার ডুগডুগী কাঁচাবাজার তদারকী করলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা চুয়াডাঙ্গায় করোনা পরিস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ সবজি ভ্যান কার্যক্রমের উদ্বোধন গাংনীর কাজীপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৪টি বসতবাড়ী ভস্মীভূত ॥ ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি ঝিনাইদহের গণিত-পদার্থ বিজ্ঞানের এক সময়ের মেধাবী ছাত্রের দিন কাটে পথে পথে

গোলাপ ফুটেছে, জিপসি ফুটেছে, ফুটেছে গ্লাডিওলাস

সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের গোলাপ গ্রামে ফুটেছে অনেক ফুল। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সব বয়সের ফুলপ্রেমীরা ছুটে আসছেন ফুল বাগানে। সারা দিন ঘুরে ফিরে নিজেদের সাজিয়ে তুলছেন বাহারী ফুল দিয়ে। দর্শনার্থীদের পদচারণা বেড়ে যাওয়ায় এবং ফুলের ভালো দাম পাওয়ায় খুশিতে রয়েছেন এখানকার ফুল চাষিরা।

চাষিরা জানান, শীতে গোলাপ ছাড়াও গ্লাডিওলাস, জারবেরা, জিপসি, চন্দ্র মল্লিকা ফুটেছে।

শনিবার সকালে বিরুলিয়া ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকার একটি গোলাপ বাগানে গিয়ে দেখা যায়, শৈত্যপ্রবাহে মধ্যেই কনকনে শীত উপেক্ষা করে  প্রিয়জনের জন্মদিন পালন করছেন এক প্রেমিক যুগল। বাগানের ভেতরেই একটি কেক কেটে একগুচ্ছ লাল গোলাপ দিয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন তারা। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিল তাদের আরও কয়েক বন্ধু-বান্ধবী।

বিজয়ের মাসে স্কুল-কলেজ ও কারখানায় বিশেষ ছুটি থাকার কারণে অনেকেই সাভারের গোলাপ গ্রামে ঘুরতে আসছেন পরিবার পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে। প্রতিদিন এখানকার গোলাপ বাগানে প্রবেশ করেই ছেলে-বুড়ো সকলেই হারিয়ে যান গোলাপের রাজ্যে। প্রিয়জনের সঙ্গে বিভিন্ন ছবি তোলার পাশাপাশি অনেকেই মেতে ওঠেন সেলফিতে। এভাবেই শ্যামপুর এলাকার গোলাপ গ্রামটি এখন পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

বিজয় দিবসের বিশেষ ছুটিতে মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে সাভারের গোলাপ গ্রামে বনভোজনে করতে এসেছেন মোজাম্মেল হোসেন। তিনি বলেন, আমরা সবাই আড়ংয়ে কাজ করি। বাৎসরিক ছুটি এবং বনভোজন উপলক্ষে প্রায় ৬০ জন সদস্য ও তাদের পরিবার-স্বজনদের নিয়ে আনন্দ উপভোগ করতে এসেছি এখানে।

স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঘুরতে আসা চাকরিজীবী শরিফুল ইসলাম বলেন, ছেলে-মেয়েদের ইচ্ছায় সাভারের গোলাপ বাগানে ঘুরতে এসেছি। এখানে চারদিকে ফুল আর ফুল। দেখে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে চার বছরের ছেলে সালমান। মায়ের কোল থেকে নেমেই সে বিভিন্ন বাগানের দিকে হাঁটতে শুরু করেছে। তাই ছেলের পেছনে পেছনে ছুটে চলেছেন তিনিও।

ফুল চাষি ইমরান হোসেন বলেন, প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে গোলাপ চাষ করেছেন তিনি। বর্তমানে বাগানে প্রতিটি গাছেই অসংখ্য ফুলের কলি থাকলেও গত কয়েক দিনে টানা শৈত্য প্রবাহের কারণে ফুল ফুটতে দেরি হচ্ছে। সময়মতো ফুল না ফোটায় এবং বিজয়ের মাসে ফুলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে প্রতিটি ফুল বিক্রি হচ্ছে ৬-৮ টাকায়। এ ছাড়া এই সময়ে বিয়ে, জন্মদিনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কারণেও ফুলের চাহিদা বেশি থাকায় প্রতিদিনই বাড়ছে ফুলের দাম। এভাবে চলতে থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই প্রতিটি গোলাপের দাম ১০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ফুলবাগানে মালির কাজ করা শহিদুল ইসলাম বলেন, শীতকে উপেক্ষা করেও মাত্র তিনশ টাকা হাজিরায় কাজের জন্য সকালেই বাসা থেকে বের হয়েছি। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থীরা ফুল বাগানে ঘুরতে আসে। অধিক লোকের পদচারণায় মাঝে মধ্যেই ফুল বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগাছা পরিষ্কারের পাশাপাশি এসব নষ্ট হওয়া এবং ভেঙ্গে ফেলা বেষ্টনী ঠিক করতেই ব্যস্ত সময় পার করেন তিনি।

গোলাপ চাষী আব্দুল খালেক নিজের খেত পাহারা দেয়ার পাশাপাশি বাগানের পাশেই ফুল বিক্রির জন্য দোকান সাজিয়ে বসেছেন। গোলাপ গ্রামে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বাগানের পাশাপাশি এসব দোকান থেকে ফুল কিনে থাকেন। এই দোকানে প্রতিটি গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ৬ টাকায়, গ্লাডিওলাস ১৫ টাকা, জারবেরা ২০ টাকা এবং জিপসি, গোলাপ ও চন্দ্র মল্লিকা দিয়ে বানিয়ে দেয়া প্রতিটি ফুলের মুকুট বিক্রি করা হচ্ছে ৮০ টাকায়। বিশেষ করে নারী দর্শনার্থীরা প্রায় সকলেই এসব মুকুট কিনে মাথায় দিয়ে ঘুরে বেড়ান গোলাপ গ্রামে।

উল্লেখ্য, সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের কালিয়াকৈর, বাগ্নিবাড়ি, মৈস্তাপাড়া, কাকাবর, সামাইর, সাদুল্লাহপুর, শ্যামপুর, আকরাইন গ্রামের দুই শতাধিক চাষি নানা রকমের ফুল চাষ করছেন দীর্ঘদিন ধরে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT