রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১০:০২ পূর্বাহ্ন

কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে ঘুরে আসুন তেঁতুলিয়া

চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো পঞ্চগড় তেঁতুলিয়া থেকে স্থানীয়দের চোখে ধরা পড়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘার নয়নাভিরাম নৈসর্গিক রূপ। বৃহস্পতিবার সকালে সূর্যোদয়ের পর থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সাধারণত অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত শীতের আগে মেঘমুক্ত নীলাকাশে বাংলাদেশ থেকে দৃশ্যমান হয় তুষার শুভ্র হিমালয় পর্বত ও বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা।বছরের এই নির্দিষ্ট সময়ে হিমালয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে প্রতি বছরই অসংখ্য পর্যটক সেখানে যান।

বৃহস্পতিবার সকালে সূর্যোদয়ের পর থেকেই স্থানীয়দের চোখে ধরা পড়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার নয়নাভিরাম নৈসর্গিক রূপ। সূর্যকিরণের তেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সকাল দশটা থেকে এগারোটা পর্যন্ত বেশ ভালোভাবেই দেখা যায়। তারপর ক্রমান্বয়ে আবার ঝাপসা হয়ে হারিয়ে যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। তবে শেষ বিকেলে সূর্যকিরণ যখন তির্যকভাবে বরফাচ্ছাদিত পাহাড়ে পড়ে তখন অনিন্দ্য সুন্দর হয়ে আবারও ধরা দেয় কাঞ্চনজঙ্ঘা।

কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গ নেপাল ও ভারতের সিকিম সীমান্তে অবস্থিত। দেশের সর্ব-উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন (স্থলবন্দর) থেকে হিমালয়ের এভারেস্ট শৃঙ্গের দূরত্ব ৭৫ কিলোমিটার আর কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব ১১ কিলোমিটার। মেঘ-কুয়াশামুক্ত আকাশের উত্তর-পশ্চিমে তাকালেই দেখা মেলে বরফ আচ্ছাদিত সাদা পাহাড়, কাঞ্চনজঙ্ঘা!

স্থানীয়রা জানান, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে দিনের শুরুতে কাঞ্চনজঙ্ঘা প্রথমে একটু কালচে, এরপর ক্রমান্বয়ে টুকটুকে লাল, কমলা, হলুদ এবং সাদা বর্ণ ধারণ করে। আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ পরিবর্তন দেখতে দুরবিন বা বাইনোকুলারের প্রয়োজন হয় না। তাছাড়া দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকলে তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে খালি চোখে হিমালয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়।

কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে যাওয়া পর্যটকদের জন্যই তেঁতুলিয়া ও বাংলাবান্ধা এলাকার আশপাশে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি হোটেল-মোটেল ও পিকনিক স্পট।

তেঁতুলিয়ার বাসিন্দা শামীম রেজা জানান, বৃহস্পতিবার সাকালে হঠাৎ করেই কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য চোখে পড়েছে। বন্ধু-বান্ধবদের জানিয়েছি, তারা তেঁতুলিয়া আসছে।

কীভাবে যাবেন

রাজধানী থেকে সরাসরি তেঁতুলিয়ায় যাওয়ার একাধিক পরিবহন রয়েছে। এছাড়া ঢাকা থেকে বিমানে নীলফামারীর সৈয়দপুর হয়ে বাস, মাইক্রোবাস বা প্রাইভেট কারে চড়েও তেঁতুলিয়া যাওয়া যায়। ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, একতা বা দ্রুতযান এক্সপ্রেসে করে সরাসরি পঞ্চগড় নামতে পারবেন। যাত্রাপথে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ও ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা খরচ পড়বে।

থাকা-খাওয়া

রাত্রি যাপনের জন্য তেঁতুলিয়ায় সরকারি ৩টি ডাকবাংলোর পাশাপাশি কয়েকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। ডাকবাংলোগুলোতে অবস্থান করতে হলে আপনাকে আগেভাগেই উপজেলা বা জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে। তেঁতুলিয়া ডাকবাংলোতে থাকলে সেখান থেকেই দেখতে পাওয়া যায় কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ রূপ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 DailyAmaderChuadanga.com

 www.bdallbanglanewspaper.com

Design & Developed BY Creative Zoone IT